শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
২৭ অক্টোবর ধানমন্ডি ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যবিষয়ক নিয়মিত আসর ‘ধানমন্ডি আড্ডা’র দশম আসর। এবারের আলোচনার বিষয়ে ছিল-আমাদের ভ্রমণ সাহিত্যে বহুমাত্রিকতা।
প্রাণের এ আড্ডার সভাপতি কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল, সহ-সভাপতি কথাসাহিত্যিক দিলারা মেসবাহ ও আমন্ত্রিত কবি, প্রকাশক, সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক, ভ্রমণ-বিলাসীদের সরব উপস্থিতিতে আড্ডা শুরু হয়। আড্ডার শুরুতে কবি ও কথাসাহিত্যিক নূর কামরুন নাহার যেন সান্ধ্য প্রদীপ জ্বেলে সাড়ে ছ’টায় তাঁর সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান শুরু করে দেন। শুরু সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মনিরা মনি।
লেখক শাকুর মজিদের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। এবারের আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক কামরুল হাসান, মাহমুদ হাফিজ, ক্ষমা মাহমুদ ও মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক।
আলোচনা শুরু করেন ভ্রমণ বিলাসী ও নগরীর সংস্কৃতি কথক নামে পরিচিত ভ্রমণ কাহিনি লেখক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ভ্রমণে উঠে আসে ভূগোল এবং ইতিহাস যা আগামীর একটি দলিল হিসাবে সংরক্ষিত হয়।
শাকুর মজিদ বলেন, মানুষ মাত্রই ভ্রামণিক এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাত্রার যে অভিজ্ঞতা তাই মূলত প্রকাশ পায় বিভিন্ন উপন্যাস, গল্প , কবিতা ও ভ্রমণ কাহিনিতেও।
মাহমুদ হাফিজ বলেন, যদিও তর্ক আছে ভ্রমণ সাহিত্য কি না কিন্তু কালে কালে গল্পের বাঁক বদলে আবশ্যই ভ্রমণ সাহিত্য হয়ে উঠেছে।
মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক বলেন, ভ্রমণে পর্যবেক্ষণ খুব জরুরি যা বর্ণনাকে পরবর্তীতে গল্প, সাহিত্য এবং ইতিহাসে রূপ দেয়।
ক্ষমা মাহমুদ বলেন, ভ্রমণ মানেই জ্ঞান অন্বেষণ যা লেখায় প্রকাশ করলে জীবন্ত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা যেন সাহিত্যে রূপ পায় ।
ফাঁকে চলে চা নাস্তা ও গানের মাধুরী এবং উপস্থিত দর্শকদের বক্তব্য এবং শেষে ধানমন্ডি আড্ডার সভাপতি মোহিত কালাম খুব ছোট্ট বক্তব্যে ভ্রমণ সাহিত্য বলতে আমরা আসলে কি বুঝি; তা বলে এ আলোচনার ইতি টানেন। তিনি বলেন, ভ্রমণসাহিত্য এমন এক সাহিত্যধারা, যেখানে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, স্থান-সংস্কৃতি-প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য এবং আবেগময় বর্ণনা একসঙ্গে গেঁথে ওঠে। এখানে গন্তব্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পথও হয়ে ওঠে কাহিনির নায়ক।
শেষ হইয়াও যেন হইল না শেষ; সমগ্র আলোচনায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রোথিত যশা কথাসাহিত্যিক দিলারা মেসবাহ ঘোষণা দিলেন তিনিও এখন থেকে ভ্রমণ সাহিত্য লিখবেন এবং করতালির মাধ্যমে সবাই তা সাদর সম্ভাষণ করেন। কথাসাহিত্যিক নূর কামরুনও বলেন পর্যটন অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে তিনিও লিখবেন ভ্রমণ সাহিত্য ।
এবার সঞ্চালক নূর কামরুন নৈশ ভোজের আমন্ত্রণ জানিয়ে দশম আড্ডার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ।
কংক্রিটের নগরীতে সাহিত্যের এমন ঋদ্ধ আলোচনা মন প্রাণ সিক্ত করুক সাহিত্যানুরাগী নগরবাসীকে, হোক আগামীর টসটসে মুগ্ধ স্মৃতি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...