বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
চৈত্রের তপ্ত দুপুর পার করে
ঝরা পাতার ওপর খসখস শব্দ করতে করতে
এক ঝুলিওয়ালা এল,
সারাদিনের ঘরকন্নার শেষে সবেমাত্র চুল খুলে বসেছি
ঝুলিওয়ালা ডেকে ডেকে বলতে লাগল
সুখ নেবে গো? সুখ নেবে?
আমার বুকভরা বিরক্তি
মুখে বললাম এক শরীর অসুখ নিয়ে সুখ বিলাবে কী করে?
সে বললে বিলাবো গো বিলাবো, বলো তোমার কী হয়েছে?
আমি ম্লান হাসলাম
আমার অনেক অসুখ গো,
এইতো এখন আমার মন খারাপ
সে হাত বাড়িয়ে আমাকে ‘দইওয়ালা’ দেখাল
আমি ‘সুধা’র ধারায় ভেসে গেলাম।
ভাসতে ভাসতে বললাম
ও ঝুলিওয়ালা আমাকে ভেসে থাকার মন্ত্র দাও
সে আমায় ভালো-মন্দ গ্রহণ করার মানসিকতা দিল,
আমি মানিয়ে নিতে নিতে মুক্তি চাইলাম
সে আমাকে ‘বিমলার’ ব্যক্তিত্ব দেখাল,
আমি বললাম এ বড় অন্ধকার সময়
যখন তখন আমার চোখে আঁধার নামে
আমার দৃষ্টি বিচ্ছিন্ন হয়
চারিদিকের শ্বাপদেরা আমাকে গিলতে আসে
নারী মাংস ওদের খুব পছন্দ,
জানো ঝুলিওয়ালা আমি ভয় পাই
আমি ভীষণ ভয় পাই ওদের দেখে
ঝুলিওয়ালা আমাকে ‘রক্তকরবী’ দিলে
তাকিয়ে দেখি বৈশাখী জ্যোৎস্না উঠেছে
চারিদিকে আলোয় আলো ভরে গেছে
অন্ধকার ক্রমশ সরে যাচ্ছে,
ভয় ভাঙতেই চাহিদা বাড়ল
গলা ছেড়ে ডাকলাম ‘ঝুলিওয়ালা ও ঝুলিওয়ালা
তুমি আমাকে রাজার থেকে বেশি সুখী করতে পারো’?
উনি বললেন হ্যাঁ ‘চিত্রাঙ্গদা’ আমি তোমাকেই শ্রেষ্ঠ মানি
ধীরে ধীরে আমার চারপাশ থেকে অসুখ দূরে সরে গেল
আমি দুহাত বাড়ালাম বললাম ঠিকানা দাও
আমাকে তোমার ঠিকানা দাও,
অসুখ করলেই সেখানে যেতে চাই
ঝুলির ভেতর থেকে একখানি রচনা সমগ্র দিয়ে বললে এই নাও
চোখ মেলে দেখি আমি সীমাহীন অনন্ত পথের যাত্রী…।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...