শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

কবি সুকান্তর এককী চিৎকার : জান্নাতুল বাকিয়া কেকা

কবিতা বাংলা ডেস্ক / ১২১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

এক সুকান্ত ভট্টাচার্য্য শিশুদের জন্য বাসযোগ্য বসতের অঙ্গীকার করে গেছেন! লিখেছেন তাঁর কালজয়ী “ছাড়পত্র”। এছাড়া শিশুদের জন্যে কে কবে ভেবেছেন বলুন তো?
তাই বুঝি আমাদের শিশুরা তাদের দুরন্ত ১৩ -১৪-১৫ বছরে হারিয়ে যায়। কেউ কেউ দুঃসহ নানান স্মৃতি নিয়ে ফেরে। কেউবা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরলেও মরার মত বাঁচে! কেন রাষ্ট্র সমাজ আজো আমাদের শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারছে না বলুন তো?
আজো কেন চোখের ফ্রেমে সেই দৌড় দেখি! ১৪ বছরের শিশুটি আজো কেন ছুটছে শৈশবের ভয়ে তাড়ায়! তার জিঙ্গাসা “আপু আমাকে ওরা ধরছে কেন?”১৪ বছরের সেই শিশুটির প্রশ্ন আজো রাষ্ট্রের কাছে! তবে উত্তর মেলে নি!
শিশুটিকে বাঁচানো গেছে বটে। তবে বাঁচেনি তাঁর শৈশব! রয়ে গেছে শিশুতোষ মনের গভীরের ক্ষত! একরাশ ভয় আতঙ্কে শিশুটি আজো দেখে কালো গাড়ি তার পিছে! তাকে কেউ বা কারা আজো তাড়া করে! রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে বন্দি শিশুটির শৈশবের সাথে হারিয়েছে তার মনের স্বাভাবিক ছন্দও।
আগে ১৭ বছরে একবার জ্বর হয়েছে! আর শৈশবে জ্বর হতো না কেন সেটা নিয়ে ছিল কত আক্ষেপ! জোর করে আল্লাহরে ডেকে বলতাম “আল্লাহ জ্বর দাও।” কেন কি জ্বর হলে আব্বা রাতে বাড়ি ফেরার আগে বড় মসজিদের সামনে থেকে (ভাসমান দোকান) কিন্তু খুব ভালো মানের মজাদার মোরব্বা দেওয়া পাউরুটি আনতেন আর আনতেন আঙ্গুর। এশার নামাজের পর পরই বিক্রি হয়ে যেত। তা না পেলে “বিশাল” বা “মুসলিম” বেকারি থেকে আনতেন স্লাইস করা ব্রেড–দুধ নিয়ে ভিজিয়ে মুখে তুলে খাওয়াতেন। যদিও আমাদের মূল আকর্ষণ ছিল মোরব্বা দেওয়া সেই পাউরুটিই।
আর দিনে খেতে হতো আনারস_জাম্বুরা। আব্বা বলতেন সিজন্যাল জ্বরে মৌসুমী ফলেই তাঁর ওষুধ। অথচ আজকাল কারণ অকারণে অসুস্থতা_ক্লান্তি। চিকিৎসক বলছেন “স্ট্রেস”! চারপাশের এত সহিংসতা আর দমন পীড়ন অন্যায় সইতে সইতে ক্লান্তিতে বিষন্ন বিপর্যস্ত।
মেসে ভাত না বলে খাওয়ার অজুহাতে তরুণকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। না হয় বলাৎকারের শিকার হচ্ছে কত কত শিশু। ধষর্নের শিকার রামিসার ঘটনার রেস কাটতে না কাটতেই আরেক শিশু নিখোঁজ! আজ তার মরদেহ উদ্ধার! আর পারি না!
১৩ বছর বয়স, কি দুরুন্ত সময়! এই ১৩ বছরের রাসেল একটি পুরো পরিবারের সাথে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে! তার মানে সেই কবে থেকেই এদেশে ১৩ কিংবা ১৪-১৫-১৬ এই সময়ে দুরন্ত শিশুরা কিভাবে প্রিয়জনের জন্য ট্রমা রেখে হারিয়ে যাচ্ছে! এত ট্রমা কিভাবে কাহাতক সহ্য করা যায়?
কী মিষ্টি কী স্নিগ্ধ একটা মুখ। বয়স মাত্র ১৩ বছর। কিশোর অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার বেলা দুইটার নিউজে যখন সইলাব সেই তখন থেকেই বেড়েছে বুক ধরফর করা বেদনা!
প্রতিদিন নতুন ট্রমার জন্ম দিচ্ছে। পুরানো ট্রমা_ক্ষতের রেস কাটতে না কাটতেই নিত্য নতুন ট্রমায় চোখের ফ্রেমে ঘুরে ফিরে আসছে জীবন্ত শিশতোষ প্রাণ উচ্ছ্বল করা কতক শিশুর হারানো শৈশবের ঘটনাক্রম! একেকটি শিশুর হারানো শৈশবের ভয়াল সব স্মৃতি! চোখের ফ্রেমে বাঁধানো সেই কতক দুঃসহ ট্রমা আজো গায়ের পশম দাঁড় করায়। চোখের জলে ভাসিয়ে দেয়।
১৪ বছরের এক শিশু! মাঠের এই প্রান্ত থেকে সেইই প্রান্ত ধরে ছুটছে! পিছে ছুটছে বিলুপ্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর একদল! পরণে তাদের কালো পোশাক! শিশুটা বুঝতে পারে না কেন তাকে এভাবে তাড়িয়ে নিয়ে ছুটছে একদল! প্রাণপন ছুটছে শিশুটি ১৪ বছর বয়সী, শিশুটি ছুটছে! যেন মাঠে চলছে গোল্লাছুটের গেইম। পিছনে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রশিক্ষিত বাহিনী (বিলুপ্ত)! এরমধ্যে শিশুটির বাড়িতে খবর গেল! নাম ধরে বলছে, খালাম্মা আপনার ছেলেকে ধরতে তাড়া করছে—!
খবরে মা ছুটলেন। ছুটলেন বড় বোন ! মাঠের এমাথা থেকে সেই মাথা শিশুটি আতঙ্কে দিগ্বিদিক দৌড়াচ্ছে! ১৪ বছরের শিশু! শিশুর দম আর কতক্ষণ! এক পর্যায়ে বিলুপ্ত প্রশিক্ষিত বাহিনীর চৌকসদের হাতের নাগালে শিশুটি। খাঁচায় পোড়া একটি কুবতরের মত ছটফট করা শিশুটি কাঁদছে_কাঁপছে! তার অপরাধ কি জানে না। জানে না তার পরিবার!
শিশুটির ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বড় বোন মাঠের শেষ প্রান্তে পৌঁছালেন বটে। ততক্ষণে শিশুটিকে বিলুপ্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কালো গাড়িতে তোলা হয়েছে! সেই গাড়ি তুমুল বেগে ছোটার জন্যে ইঞ্জিন হাঁকছে। একটি ১৪ বছরের শিশু! তাঁর বোনকে দেখতে পেয়ে আরো আশান্বিত হয়ে হাঁপুস নয়নে কাঁদছে বলছে–“আপু আমাকে ওরা ধরছে কেন? তাই তো কেন?–“এই যে ভাই গাড়ী থামাান প্লিজ। শিশুটির অপরাধ কি বলে জান। আমরা অভিভাবকেরা জানতে চাই সে কি করেছে?”
কিন্তু না, সেদিন বিলুপ্ত বাহিনীর সেই গাড়িটি থামে নি! অভিভাবকেরা জানতে পারেন নি তার সন্তান স্বজন ভাইয়ের দোষ কি? শুধু একটুকু জানা গেছে তাও চোখের দেখায়! যারা মাঠের মধ্যে দাবড়ে শিশুটিকে ধরেছে সেই তারা রাষ্ট্রীয় (বিলুপ্ত) বাহিনীর সদস্য। এর প্রমান তারা সবাই ছিল স্ব বাহিনীর পোশাক পরিহিত। তারা এসেছিল প্রকাশ্য দিবালোকে দিনের আলোতে। বিকেল তখন সন্ধ্যায় গড়াতে পারে নি। বরং গনগনে তেঁতে ছিল রোদের তেঁজ। সাথে ছিল তাদের গাড়ি! সুতরাং অস্বীকার করার উপায় ছিল না! তথাপিও শিশুটিকে কেন এবং কোথায় নেওয়া হলো সেই তথ্যটুকু জানতে দীর্ঘ সময় আর অপেক্ষায় থেকে কত জায়গায় যে ছুটতে হয়েছে তা একমাত্র প্রভুই জানেন!
সেই গাড়ির পেছনে পেছনে ছুটলেন ৮ সোয়া ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী! ২৭ বছরের সেই তরুণী গাড়ির পিছে দৌড়াচ্ছেন আর চিৎকার করে জানতে চাইলেন–“তার ভাইকে কেন তুলে নিচ্ছেন! ১৪ বছরের শিশুটির অপরাধ কী।”সেদিন কেউ বলেনি বটে। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিলুপ্ত সংস্থার গাড়ী আর সেই গাড়ীর রং বর্ণ দেখে শিশুটির পিতা, বোন স্বজন সবাই ছুটলেন তাদের অফিসে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে! কেউ জানে না! জানলেও কেউ স্বীকার করে না। শিশুটির মা পাগলপারা, বোনটির সময়ের আগে সন্তান প্রসব বেদনা!
এর মধ্যেই শিশুটির পিতা ছুটছেন পাগলের মত এদিক সেদিক! প্রায় মাঝ রাতে জানা গেল দেশে চলমান “অপারেশন ক্লিন হার্ট” এর অংশ হিসেবেই ১৪ বছরের এক শিশুকেও গ্রেফতার করা হয়েছে!
হায়রে দেশ! হায়রে_স্বদেশ_স্বাধীনতা একাত্তের_মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরব শক্তির সন্তান হিসেবে কাঙ্খিত উপহার! রাতে শিশুটিকে যে ক্যাম্পে স্টেশন কমান্ডারের সামনে হাজির করা হলো তিনি দেখলেন! আহা্ কোন ভুল তথ্যের জেরে একটি ১৪ বছরের শিশুকে এমন শাস্তি দেওয়া। তিনি মর্মাহত হলেন! তবে ততক্ষণে শিশুটির শরীরে ক্ষত আর ক্ষত! মনের ক্ষত সেতো আজীবনের সঙ্গী হলো শিশুটির!
যদিও পুরো পথে, রাস্তায়, বন্দি ক্যাম্পে ১৪ বছরের শিশুটি সেই বাহিনীর সদস্যদের সাথে কথা বলেছে! প্রচুর কথা বলেছে! কান্না থামিয়ে! বলেছে তার নিজের স্বপ্ন, তার লেখাপড়া, তার বোনেরা কে কি করে সে সব সবই বলেছে! “শিশুটি খুব হাসিখুশি, ভালো “জোকস” বলতে পারে। করতে পারে “দারুণ অভিনয়”। সেই শিশুটি একটা সময় কান্না থামিয়ে ছোট্ট একটা “জোকস”ও নাকি বলে শুনিয়েছে তাদের।” যে “জোকস” বলে কদিন আগে স্কুলেও পুরস্কার পেয়েছে! পুরস্কার পাওয়ার সেই গল্পটিও করেছে সেই ১৪ বছরের শিশুটি!
একটি ১৪ বছরের শিশু! তখনো শিশুটির চাহনীতে নিস্পাপ অভিব্যক্তি। স্কুলে “জোকস” বলে পুরস্কার পাওয়ার গল্প শুনে নাকি বিলুপ্ত বাহিনীর সদস্যরা হেসেছিলেন! তারা নিজেরাও নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেছিলেন ১৪ বছরের ছেলেটিকে কেন ধরলেন তারা! পরে জানা গেছে, লিস্টে তার নাম ছিল কি না, তার চেয়ে বড় কথা ১৪ বছরের শিশুটিকে মাঠে খেলারত অবস্থায় চেনানো হয়। সেই খেলার মাঠ থেকেই তাড়া করে ধরেছে বিলুপ্ত সেই রাষ্ট্রীয় বাহিনী!
একটা সময়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিলুপ্ত সেই বাহিনীর সদস্যদের ডিউটি চেঞ্জ হয়েছে! বদলে গেছে আগের দায়িত্বশীলেরা। নতুন টিমের কাছে শিশুটি তার পরিচিতি জীবন ঠিকুজি বলবার সময়ই পায় নি। সুতরাং সেই রাতেই শিশুটির শৈশব হারিয়ে গেল চিরতরে। তবে ভাগ্য ভালো সে রাতেই শিশুটির অবস্থান সনাক্ত করা সম্ভব হলো!
সেখানে জানানো গেল যে একটি নিস্পাপ ১৪ বছরের শিশু পাঠার বলি হচ্ছে! কমান্ডার শিশুটিকে দ্রুত চিহ্নিত করলেন। ততক্ষনে শিশুটির উপরে ঝড় গেছে একদফা! পরম করুনাময়ের অশেষ কৃপা স্বজনেরা ১৪ বছরের শিশুটিকে ফিরে পাবার আশায় বুক বাঁধলেন। এর মধ্যেও খতিয়ে দেখা হলো খোঁজ খবর চললো পরে ছাড়া হবে সকালে। সকালে প্রথম দফায় ডিউটিরত সদস্যরাও সাক্ষী দিলেন গতদিন পুরো পথে শিশুটির সাথে তাদের কথোপকথনের!
পরদিন সকালে শিশুটি ফিরলো স্বজনের বুকে। সেই যাত্রায় শিশুটি মরেনি বটে। তবে শরীরে তার যতটা ক্ষত তা চোখে দেখাটাও কষ্টের। আর মনের ক্ষত তার কোন দিনই দূর হলে না—! একটি শিশুর জীবন ধ্বংস হলো! শিশুটির পিতা স্ট্রোক করলেন। মায়ের মনো-দৈহিক অবস্থা ক্রমশ নাজুক হলো! একটি পরিবারের স্বপ্নের ধ্বংস হল!
১৪ বছরের শিশু! শরীরে তার ঝড়ো হাওয়ার তান্ডব। ঢাকায় এনে পুরো চেকআপ চিকিৎসা! মনোচিকিৎসক, মেডিসিন, ফিজিক্যাল মেডিসিন, থেরাপির সাহায্যে শরীরের নানান ক্ষত বিশেষ করে পায়ের হাঁটা চলাফেরাটা খানিক স্বাভাবিক হলো বটে। তবে ভঙ্ককর হলো শিশুটির মনের ক্ষত! ১৪ বছরের শিশুটির মনের ক্ষত সহসাই তো গেলই না! বরং বাড়লো রয়ে গেল বছরের পর পর! একের পর এক মনোচিকিৎসক দেখানো হলো চললো কাউন্সিলিং! ওষুধ নির্ভর জীবন তার!
একটি ১৪ বছরের শিশু! তার মনস্তাপে শুধুই ভয় আর ভয়! পরবর্তীতে যুক্ত হলো সন্দেহ বাতিকতা। কেউ তাকে ধরে নিয়ে যাবে। তাকে শাস্তি দেবে।–“ঘুমিয়ে আছে লাফ দিয়ে উঠবে বলবে, দরজা লাগাও ভালো করে লাগাও। ওরা আসছে ধরতে আসছে!”
আহা একটি প্রাণবন্ত হাসিখুশি শিশু, যে শিশুটি স্কুলে “অভিনয়” আর “জোকস” বলে পুরস্কার পেত! সেই শিশুটির মনস্তত্ত্ব আজো ভাগ্যের ফেরে বন্দি! রাষ্ট্রের বিলুপ্ত একটি বাহিনীর একটি গাড়ি আজো তাকে তাড়িয়ে নিয়ে ফিরছে বছরের পর বছর!
ইস্ জীবন! একটি প্রাণবন্ত শিশু কিশোরের জীবন ঘুটিয়ে গেল ভয়ের কাছে। কত চিকিৎসা ঢাকা_চেন্নায়_কোলকাতা! মাঝে মাঝেই শিশুটিকে ভর করে তুমুল ভয়—“তাকে কারা যেন ধরতে আসছে! মাঠের মধ্যে তেড়ে নিয়ে ধরবে এমন ভয়ে শিশুটা কাবু হয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে নেয় সব কিছু থেকে।” আহ্‌ জীবন! একটি পরিবার স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায়!
রাষ্ট্রযন্ত্র রাজনৈতিক মত মতাদর্শ নীতির সাথে চলে যখন যে দল তার হয়ে। রাষ্ট্রীয় দমনে পীড়নে তৈরি হয় একেক সময় একেক পেটুয়া বাহিনীর। তাদের হাতে পিষ্ট হয় সাধারণ জনমানুষের জীবন_শিশুতোষ কন্ঠ_কিশোর কিংবা তারুণ্যবেলা। দমিত হয় রাজনৈতিক মত_মতাদর্শ_স্বাধীনতা একাত্তরের চেতনা!
কত পরিবার কত শিশু_কিশোর _তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব_সেই দমন পীড়ন_নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। প্রিয়জনের বেদনার ভারে কত পরিবারে স্বজনেরা হাহাকারে!সব হারানোর বেদনা বিষন্নতায় কাঁদেন! সে খবর কে রাখে! একটি শিশু শৈশব হারায়। তারুণ্য হারায়, হারায় জীবনের সব সাধ আহলাদ! পরিবার হারায় পিতা ভাই স্বামী একান্ত প্রিয়জন। একটি পরিবারের বেদনা গভীর হতে গভীর হয়। ক্রমশ বেদনার ভারে গভীর ক্ষত হয়ে উঠে দীর্ঘস্থায়ী।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য এককী চিৎকার করে জানান দেন শিশুর জন্য করণীয়! নয়া প্রজন্মের জন্য এই বিশ্বকে বাসযোগ্য করার অঙ্গীকারে তিনি লিখে যান তার কালজয়ী সেই আক্ষাণ—-
“এসেছে নতুন শিশু
তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান:
জীর্ণ পৃথিবীকে ব্যর্থ,
মৃত আর ধ্বংসস্তুপ পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের
চলে যাবে তবু আজ
যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল
এ বিশ্বকে এ শিশুর
বাসযোগ্য করে যাবো আমি
নবজাতকের কাছে
এ আমার দৃঢ অঙ্গীকার।”
———-
সুকান্ত বাবু বিশ্বকে বাসযোগ্য করার
অঙ্গীকার করেছেন বটে। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র তো
ব্রত নিয়ে চলে–“ক্ষমতা তুমি কার” আমি তার” আমি তাহার।”
তাই শিশুর অধিকার আর অঙ্গীকারের কবিতার পঙক্তি আমরা কেবলই পড়ার জন্য পড়ি। না হয় হাততালি পেতে আনুষ্ঠানিক আবৃতিতে কন্ঠে ধারণ করি! বাহাবা পায়! তবে বাস্তবতা বড়ই করুন! রাষ্ট্র শিশুদের রক্ষা করতে পারে না। বার বার ব্যর্থ হয়! নানান ঘটনায় আমরা স্বজন হারিয়ে বা বেঁচে ফেরা অর্ধমৃতদের নিয়ে বেদনার বালুচরে বসত করি!
আমাদের দিন চলে গড়িয়ে গড়িয়ে বেদনার পাহাড়ে ! পুরানো ট্রমা নতুন ট্রমাতে পথ হারায়! কিন্তু ট্রমা আর কাটে না! ট্রমা জিইয়ে রাখে রাষ্ট্র! সেই ট্রমার সমাধিতে চেপেই রাষ্ট্রে ঘটে ক্ষমতার পালাবদল! কিন্তু যার গেছে বা যায়! যাদের যা হারায় তাদের ক্ষত_ক্ষতি একান্তই বহন করে চলে যার যার স্বজন_প্রিয়জনেরা। ওদিকে রাষ্ট্রযন্ত্র দৌড়াতে থাকে ক্ষমতাসীনদের হয়ে!
বিঃ দ্রঃ যে ক্ষতি ও ক্ষত তা আর অনেকের মত বিপণন করা হয় নি। অথচ স্বাধীনতার পক্ষ শক্তির দাবিদার দলটির কাছে_কোলে ঘনিয়ে বসে পরাজিত পাকিস্তানের এদেশীয় এজেন্টগণ ও জিন্নাহর আত্মারা ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হয়। একাত্তর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকিকিণি করে ফুলেফেঁপে উঠে! রাষ্ট্র কাঠামোতে তাদের পূর্বসূরির মত উত্তরসূরীরা আর্থিক বাণিজ্যিক_চাকরির_ক্ষেত্রেসহ সব ধরণের সুযোগ সু্বিধা ও সামাজিক মর্যদায় আসীন হয়! সবাই তেলবাজ চামচ খোঁজে! কেউ কাজের লোক কিংবা প্রকৃত স্বদেশ স্বাধীনতা_একাত্তরের পক্ষের প্রজন্ম খোঁজে না! বরং মাঠে স্বাধীনতার পক্ষ_বিপক্ষ শক্তির লড়াই জিইয়ে রাখে। আর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যায়ে চলে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তির দাবিদার পরিবারের সাথে রাজাকার আলবদর আল সামসের আত্মীয়তার রিস্তা_ব্যবসা_বাণিজ্য সবই! আর তখনই সাধারণ আম জনতার মত কাঁটা ঘায়ে নূনের ছিটা লাগে! রক্তাক্ত হয় হৃদয়!
দিন গড়িয়ে চলে, ঢাকা ডায়েরি, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬.

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...