শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

বঙ্গীয়’র শ্রাবণ সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

কবিতা বাংলা ডেস্ক / ৩৭৯ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন

১. শান্তি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়
২. চিত্রশিল্পী চিত্ত হালদারের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ ও পরিদর্শনের উদ্যোগ নেবার আহবান
বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ // ৩০ জুলাই ২০২৬, বৃহষ্পতিবার, বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্বে স্মরণ শ্রদ্ধা, কবিতা আবৃত্তি এবং দ্বিতীয় পর্বে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা ছিলো। অনুষ্ঠানে অসংখ্য কবি, লেখক, স্কলার ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে শ্রাবণ সন্ধ্যা আনন্দ সম্মিলনের মাধ্যমে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে।
প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি চিত্রশিল্পী শেখ রবিউল হক, দ্বিতীয় পর্বে নাট্যজন, চলচ্চিত্র নির্মাতা কাওসার চৌধুরী।
সম্মিলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট লেখক-গবেষক কামরুল ইসলাম মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন।
চিত্ত হালদার স্মরণ সভা:
প্রথম পর্বের আলোচনা সভায় স্মরণ করা হয় ৪৮ বছর পূর্বে প্রয়াত বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, বীরমুক্তিযোদ্ধা চিত্ত হালদারকে। তাঁর শিল্পভুবন নিয়ে স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন চিত্রশিল্পী কবি বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ রবিউল হক। বক্তব্য রাখেন, চিত্রশিল্পী ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন, চিত্রশিল্পী নাজিব তারেক, চিত্রশিল্পী ফারজানা ইয়াসমিন ও সাহিত্যিক কামরুল ইসলাম।
বক্তাগণ বলেন, চিত্রশিল্পী চিত্ত হালদার (১৯৩৬-১৯৭৮) একজন স্বশিক্ষিত চিত্রশিল্পী। বরিশালের শৈশব কৈশোর, যৌবনে মুক্তিযোদ্ধা, কিছু বছর ঢাকা এবং অন্তিমকালে বরিশালে অকাল প্রয়াত হন। বাংলার নদী বাংলার পল্লী প্রকৃতি, পরিবেশ , শ্রমজীবী মানুষ, প্রান্তিক নারী-পুরুষের সংগ্রামী জীবন তাঁর শিল্পকর্মে স্থান পেয়েছে। ভাস্কর্যে মাটি, কাঠ, পাথর ও প্লাস্টার অব প্যারিসের মাধ্যমে পল্লী বধূ, কুষক, শ্রমিক, জেলে, রাখাল সহ বেশকিছু জীবন্ত ভাস্কর্য় এবং বরিশালের শহীদ মিনারের ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন। দেশীয় অস্ত্র তৈরির মাধ্যমে পাক-হানাদারদের প্রতিরোধ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
বক্তাগণ তাঁর সংগ্রহশালা সংরক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা নেবার উপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য:
বিশ্বের চলমান পরিস্থিতিতে সকল দেশে নানারকম অমানবিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত মানবিক জীবন, প্রকৃতি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিপণ্ন হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় সকল দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।
বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ লেখক –শিল্পীর সৃজনশীলতার মাধ্যমে একটি শান্তি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। কবি লেখক শিল্পী ও জনগণের উন্মুক্ত মতপ্রকাশ, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ, বাঙালি ও অন্যান্য জনজাতির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যর স্বাধীনতা রক্ষা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ সৃষ্টি, লেখক-শিল্পীদের আর্থিক সহযোগিতা, সংবিধানের মূলনীতির আলোকে বাংলাদেশ পরিচালনা, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে জাতীয় ও আঞ্চলিক সকল সংগঠনের আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টির প্রতি সরকারকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবার আহবান জানানো হয়।
নৃত্য পরিবেশনা…
শ্রাবণ সন্ধ্যার দ্বিতীয় পর্বে বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের শিক্ষয়িত্রী এগনেস র‌্যাচাল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস একক ও তাঁর দল সমবেত নৃত্য পরিবেশনা করেন। শিল্পীরা হলেন,লাবনী বন্যা, মাহনাজ রহমান, রিমি রফিক, রাজিয়া খন্দকার রাইসা এবং আরো একটি একক নৃত্যে আলেকজান্দ্রিয়া আমীর।
সংগীত পরিবেশন…
বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা অনুষ্ঠানে নিবিষ্টমগ্নে ০৭টি নজরুল সংগীত পরিবশেন করেন।
পরে সংগীত পরিবেশন করেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী, সংগীতশিল্পী রেফুল করিম ও প্রমুখ।
নেপালে বিশ্বসভা’র উদ্যোগ…
শ্রাবণ সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নেপাল থেকে আগত সংস্কৃতি-জন আশিক কার্কি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বঙ্গীয়’র মাধ্যমে নেপাল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশ্বসভার সকল প্রকার উদ্যোগ নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপস্থিতির নাম (আংশিক )…
দেশের দুই শতাধিক বিশিষ্ট কবি, লেখক, শিল্পী , সংশ্লিষ্টব্যক্তিবর্গ এবং কয়েকজন বীরমুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –
১. অধ্যাপক আহমেদ রেজা, ২. কবি শেখ রবিউল হক, ৩. বীরমুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি, ৪. নাট্যজন কাওসার চৌধুরী, ৫. সাহিত্য চিন্তক সিরাজুল হক খান, ৬. বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হায়াত হেদায়েত, ৭. বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান, ৮. কবি রহীম শাহ, ৯. বীরমুক্তিযোদ্ধা লিনু হক, ১০. বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়ন্তী রায়, ১১. কবি আসাদুল্লাহ, ১২. বীরমুক্তিযোদ্ধা একেএম শামীম চৌধুরী, ১৩. নৃত্যশিল্পী রাচ্যাল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস, ১৪. সংস্কৃতিজন সোমিত্র কুমার মুৎসুদ্দি কবি সাঈদা নাঈম, ১৫. চিত্রশিল্পী নাজিব তারেক, ১৬. চিত্রশিল্পী ফারজানা ইয়াসমিন, ১৭. আবৃত্তিশিল্পী রূপশ্রী চক্রবর্তী, ১৮. কবি আবু সাঈদ তুলু, ১৯. নাট্যজন ইউজিন গোমেজ, ২০. কবি আকমল হোসেন খোকন, ২১. সাহিত্যিক সেলিম সোলায়মান, ২২. নারী-উদ্যোক্তা রীনা তালুকদার, ২৩. উদ্যোক্তা নিলুফার ইয়াসমিন, ২৪. সংস্কৃতি-জন কথিকা বড়–য়া, ২৫. কবি সাবরিনা রূবিন, ২৬. লেখক-সম্পাদক মাহমুদুর রশীদ, ২৭. আবৃত্তিশিল্পী জেবুন্নেসা মুনিয়া, ২৮. নাট্যশিল্পী সৈয়দ আনিসুর রহমান, ২৯. . চলচ্চিত্র নির্মাতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, ৩০. গবেষক কবি শামসাদ ফেরদৌসী, ৩১. কবি রাজিয়া লতানা, ৩২. কবি জেসমিন জয়া, ৩৩. সংগীতশিল্পী রূমানা আক্তার, ৩৪. কবি আকলাসুর রহমান সোনা ফকির, ৩৫. কবি বৃষ্টি মাহমুদ, ৩৬. কবি সরকার আলী আসগর, ৩৭. কবি শোয়াইব আহমেদ,৩৮. জনাব নাজমুল হাসান সেরনিয়াবত, ৩৯. শিল্পী সনম খান, ৪০. শেখ সেতার, ৪১. সংগীতশিল্পী রেফুল করিম, ৪২. কবি ইকবাল কবীর, ৪৩. আবৃত্তিশিল্পী শামীমা সুলতানা, ৪৪. সংস্কৃতি-জন লায়লা নূর মুক্তি, ৪৫. কবি রিপা ইসলাম , ৪৬. আচার্য শ্রীদীপক পাল, ৪৭. ক্রীড়াবিদ রেহানা পারভিন, ৪৮. কবি কনক বিশ্বাস, ৪৯. কবি নাঈম আহমেদ, ৫০. কলামিস্ট নূরজাহান খাতুন, ৫১. কবি রিপা ইসলাম, ৫২. গবেষক ড. আসাদুজ্জামান খান, ৫৩. কবি হাফিজ রহমান, ৫৪. সংস্কৃতি-অনুরাগী আশরাফুন্ নাহার ৫৫. সংগঠক গবেষক সোহানা আহমেদ, ৫৬. সংগীতশিল্পী বিনয় সোমদ্দার, ৫৭. কবি শামীমা খান নীলা, , ৫৮. কবি শিল্পী মাহমুদা, ৫৯. আবৃত্তিশিল্পী নাজমুন নাহার মিতা, ৬০. কবি হাসান পারভেজ, ৬১. আবৃত্তিশিল্পী জিনিয়া আফরিন, ৬২. কবি রিমি কবিতা, ৬৩. নাট্যশিল্পী এস এম ফরহাদ, ৬৪. কবি অর্পিতা সুলতানা, ৬৫. কবি উম্মে সালমা কেয়া, ৬৬. সংস্কৃতি-জন কাকলী খান, ৬৭. আবৃত্তিশিল্পী মাহানূর জাবীন শর্মী, ৬৮. কবি শাহরিয়ার জাহাঙ্গীর, ৬৯. কবি জীনাত তাজনীন, ৭০. কবি আনিস মুহম্মদ, ৭১.সংস্কৃতি-সংগঠক আশীষ কুমার মজুমদার, ৭২. কবি জাকিয়া জেসমিন জুঁই, ৭৩. কবি রিমঝিম আক্তার রিচি, ৭৪. আবৃত্তিশিল্পী নায়লা তারাননুম চৌধুরী, ৭৫. সংস্কৃতিজন নূরজাহান বেগম, ৭৮. নৃত্যশিল্পী আলেকজান্দ্রিয়া আমীর, ৭৯. কবি শাহাদাত আবরার, ৮০. অধ্যাপক বেদার উদ্দিন আহমেদ, ৮১. কবি স. ম. শামসুল আলম, ৮২. কবি পারভিন আক্তার, ৮৩. সংস্কৃতি-জন ফারজানা সাথী, ৮৪. কবি তাহসিন তাবাসসুম ঐশী, ৮৫. কবি নাঈমা খানম, ৮৬. কবি মাসুদা তোপা, ৮৭. কবি এনামুল হক জুয়েল, ৮৮. জনাব সাইফুর রহমান, ৮৯. চলচ্চিত্র প্রযোজক আব্দুস সামাদ খোকন, ৯০. ফ্যাশন-ডিজাইনার আমিনা রহমান, ৯১. আবৃত্তিশিল্পী নাজিয়া আরেফিন, ৯২. উদ্যোক্তা শাহীনূর আক্তার, ৯৩. যোগশাস্ত্রী এস এম মঞ্জুরি, ৯৪. সংস্কৃতিজন সাগর আহমেদ খান্দানি, ৯৫. কবি বাবুল আনোয়ার, ৯৬. কবি শিপ্রা রহমান, ৯৭. সংস্কৃতিজন কাজী আবু তাহের হীরা, ৯৮. সংগীতশিল্পী গোধূলি গমেজ, ৯৯. সাহিত্যিক সেলিম মাহবুব, ১০০. কবি শহীদুল জয়, ১০১. সাংবাদিক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ১০২. সৃজনশীল প্রকাশক মো. কবির হোসেন, ১০৩. অধ্যাপক ডা. পলাশ বসু, ১০৪. নৃত্যশিল্পী লাবনী বন্যা, ১০৫. নৃত্যশিল্পী মাহনাজ রহমান, ১০৬. নৃত্যশিল্পী রিমি রফিক, ১০৭. নৃত্যশিল্পী রিংকি রানী দেবী, ১০৮. নৃত্যশিল্পী রাজিয়া খন্দকার রাইসা, ১০৯. শিল্পী রুনি তংচংগা, ১১০. সমাজকর্মী গনি খান, ১১১. সংগীতশিল্পী সামান্থা শারমিন, ১১২. লেখক-গবেষক আবুল খায়ের, ১১৩. কবি প্রাবন্ধক বিপ্লব রঞ্জন সাহা, ১১৪.কবি মাহিদীন মুকুল চৌধুরী, ১১৫. কবি প্রত্যাশা ইসলাম, ১১৬. শিল্পী সূচিতা সপর্যা, ১১৭. কবি-লেখক কামরুল ইসলাম সহ প্রমুখ।
বঙ্গীয়’র উদ্যোগে বিভিন্ন জনের উপস্থিতি যেন শান্তি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার নতুন বার্তা বহন করছে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...