শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন

আকাশ-চোর : রতনতনু ঘাটী।

কবিতা বাংলা ডেস্ক / ১২৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪২ অপরাহ্ন

পরীক্ষা শেষ, এবার হাতে মাসখানেকের ছুটি
বাবা বললেন মাকে ডেকে, “এবার চলো উঠি।”
আমি বললাম, “না না, বাপি, উটি অনেক দূর
এবার চলো সেই যেখানে আকাশ-সমুদ্দুর!”
“কোথায় সেটি!” বাবা বললেন, “বল না দেখি খুঁজে।”
আমি বললাম, “বলতে পারি এক্ষুনি চোখ বুজে
হাওড়া থেকে লোকাল ট্রেনে মেচেদা নামলাম
সেখান থেকে বাস যাচ্ছে সিঁদুরটিয়া গ্রাম।”
বাবা বললেন, “ও হো, সেতোর ছোটো পিসির বাড়ি!”
আমি বললাম, “এই ছুটিতে সেখানে যেতে পারি।”
বাবা তখন মাকে ডাকলেন, “কই গো, এসো, শোনো—
দোলার বাড়ি লম্বা ছুটির মানে নেই তো কোনো
ওরাই যাক না দু’-ভাইবোনে, আসুক ঘুরেটুরে
ওদের নিতে ডেকে পাঠাই টুকাই-কুঙ্কুরে!”
বোন বলল, “নদী পেরোনো? হাঁটু-ভরতি কাদা ?
আমার যেতে ইচ্ছে তো নেই, যাক না একা দাদা।

ওরা যখন ছুটবে মাঠে বিল্টু ও বন্ধুতে
আমি তখন থাকব ডুবে ফেলুদা-শঙ্কুতে!”
অনেক টানাপোড়েন শেষে ট্রেনের পরে বাসে
নেমেই দেখি হলদি জলে মেঘরা ভেসে আসে।
একটু পরে তাকিয়ে আমি মেঘগুলোকে খুঁজি
ও মা, ওই তো, রঙে-রঙে দোল খেলেছে বুঝি !
লঙ্কাজবার ঝোপটা গেল অন্ধকারে ছেয়ে
ছড়া পড়ছে জোনাকপোকার ছোট্ট ছেলেমেয়ে।
সকালবেলা ছুট পাঁইপাঁই মস্ত বড়ো মাঠ
মাঠ পেরিয়ে বনে গিয়েই ভূতের ভয়ে কাঠ।

রোদ-বৃষ্টি রামধনু আর জ্যোৎস্না লুটোপুটি
দেখতে দেখতে ফুরিয়ে এল মস্ত বড়ো ছুটি।
সেদিন একা ভাবছি বসে সরু আলের ধারে
কলকাতাকে কেউ এভাবে সাজালেই তো পারে!
এমন সময় নবীনদাদু বলল ডেকে, “কে ও?
তোতন নাকি? করছ কী ভাই? আমার বাড়ি যেও।”
আমি বললাম, “পরেরবারে যাব সময় করে
দু’-এক টুকরো জ্যোৎস্নাতে আজ পকেট গেছে ভরে!
কলকাতাতে অনেক আছে, অনেক ভূরি ভূরি
আকাশ তো নেই, তাই দু’-মুঠো আকাশ করছি চুরি!”

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...